দীপাবলি,বর্ষবরণ,হাতেখড়ি,নবান্ন ও দোলযাত্রা সম্পর্কে জেনে নিন

বর্ষবরণ বা নববর্ষ---- বাংলা মাসের প্রথম দিন নতুন বছরকে বরণ করার মাধ্যমে এ উৎসব পালন করা হয়৷এটি ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি পেয়েছে সার্বজনীনতা৷ বর্ষবরণ উৎসব আজ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক মহা উৎসব ৷ এএ দিন বিভিন্ন পূজা ,মিষ্টি খাওয়া ,ভাব বিনময় ও হালখাতাসহ নানা প্রকার অনুষ্ঠান করা হয়৷ বর্ষবরণ ও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃৃৃগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব বৈসাবি পালন করা হয়৷ দীপাবলি--- শ্যামা বা কালীপূজার দিন রাত্রে অনুষ্ঠিত হয় দীপাবলি উৎসব৷ প্রদীপ জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করা হয়৷ সচেতনতার আলো জ্বালিয়ে মনের অজ্ঞানতার মোহান্ধকার দূর করার প্রতীক হিসেবে এই দীপাবলি উৎসব৷ এটির মধ্য দিয়ে সকল কুসংস্কার প্রদীপের আগুনে পুড়িয়ে জ্ঞানের আলোকে সারা বিশ্ব আলোকিত হোক৷ এ ব্রত নিয়েই দীপাবলি উৎসব পালন করা হয়৷ এটি দেওয়ালি ,দীপান্বিতা , দীপালিকা,সুখরাত্রি,সুখসুপ্তিকা প্রভৃৃতি নামেও পরিচিত৷ হাতেখড়ি--- সরস্বতী পূজার দিন শিশুদের শিক্ষা জীবনে প্রবেশের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হাতেখড়ি অনুষ্ঠান৷পুরোহিত কিংবা পছন্দনীয় গুরুজনের কাছে কলাপাতায় খাগ দিয়ে লিখে অথবা পাথরের খড়িমাটি দিয়ে লিখে শিশুরা লেখাপড়ার জগতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করে৷ নবান্ন--- নবান্ন আবহমান বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী অসম্প্রদায়িক সর্বজনীন উৎসব৷ নবান্ন=নব+অন্ন, নবান্ন শব্দের অর্থ নতুন ভাত ৷বার মাসে তের পার্বনের একটি পার্বণ৷হেমন্তকালে অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি ভাত নানা রকম পিঠা প্রভৃৃৃতি দিয়ে যে মাঙ্গলিক উৎসব করা হয় তারই নাম নবান্ন উৎসব ৷এটি ঋতুভিত্তিক অনুষ্ঠান ৷এদিন শস্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্রীশ্রী লক্ষীর পূজা দেওয়া হয়৷ দোলযাত্রা--- ফাল্গুনী পূর্ণিমার(দোলপূর্ণিমা) দিন রাধাকৃৃৃৃষ্ণকে দোলায় রেখে আবীর ,কুম্কুমে রাঙিয়ে পূজা করা হয়৷তাদের পূজা দিয়ে পরস্পর পরস্পরকে রং বা আবীর মাখিয়ে সকলে আনন্দ করে ৷এ পূজার আগের দিন অর্থাৎ ফাল্গুনী শুক্লা চর্তুদশীর দিন বুড়ির ঘর বা মেড়া পুড়িয়ে অমঙ্গলকে দূর করা হয় বা অমঙ্গলকে ধ্বংস করার প্রতীকী অনুষ্ঠান করা হয়৷ অনেক স্থানে এ সময় সমস্বরে বলা হয় -আজ আমাদের নেড়া পোড়া ,কাল আমাদের দোল,পূর্ণিমাতে বলো সবাই ,বলো হরিবোল৷এটি মূলত বেষ্ণবীয় উৎসব ৷এই ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমার দিন বৃৃৃৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবীর নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীগণের সাথে রং খেলায় মেতেছিলেন৷ এ ঘটনা থেকেই এ দোল খেলার প্রবর্তন৷একে বসন্ত উৎসবও বলা হয়৷দোলপূর্ণিমার দিন দোলযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে গান মেলা প্রভৃৃতির আয়োজন করা হয় ৷দোলযাত্রা উৎসবের দিন সকাল থেকেই শত্রু মিত্র নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলে বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়ে বিভেদ ভুলে যায় ৷সকলেই হয়ে যায় একাত্ম ৷ এটাই দোলযাত্রার সার্বজীনতা ৷ বাংলার বাইরে এটি হোলি উৎসব নামে পরিচিত
দীপাবলি,বর্ষবরণ,হাতেখড়ি,নবান্ন ও দোলযাত্রা সম্পর্কে জেনে নিন দীপাবলি,বর্ষবরণ,হাতেখড়ি,নবান্ন ও দোলযাত্রা সম্পর্কে জেনে নিন Reviewed by King on February 06, 2019 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.